1. kamruluz@gmail.com : ক্রাইম নিউজ : ক্রাইম নিউজ
  2. info@www.crimenews.online : CRIME NEWS :
শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ০৯:৪৩ অপরাহ্ন
বিজ্ঞপ্তি :
জরুরী সাংবাদিক নিয়োগ চলছে আপনার কাছে একটি দুর্দান্ত সুযোগ! "ক্রাইম নিউজ" সংবাদপত্রে জরুরী ভিত্তিতে সাংবাদিক নিয়োগ চলছে।

প্রেমের বিয়ে, ১৫ বছর পর স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে আটক স্বামী

  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৪
  • ২৫৭ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক: পাবনার কাশীনাথপুরে গৃহবধূকে পিটিয়ে ও শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নিহতের স্বামীকে আটক করেছে পুলিশ।

বুধবার (১১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭ টার দিকে এ ঘটনা ঘটেছে কাশীনাথপুর উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র সংলগ্ন জাপান টাওয়ারের ৩য় তলায়। এ ঘটনায় নিহতের পিতা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।

নিহত গৃহবধূর নাম হাফসা খাতুন (৩০)। তিনি বেড়া উপজেলার কুশিয়ারা-বাগজান গ্রামের মাওলানা নজরুল ইসলামের মেয়ে এবং স্থানীয় স্কাইলার্ক স্কুলের শিক্ষিকা ছিলেন।

স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে হাফসার স্বামী মেহেদী হাসান জিয়াকে (৩৫) আটক করে। জিয়া আমিনপুর থানাধীন টাংবাড়ি গ্রামের হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক ডা. জাহিদ হোসেন খানের ছেলে। প্রতিবেশীদের কাছ থেকে জানা যায়, জিয়া দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদকব্যবসার সাথে জড়িত ছিলেন। এমনকি ইয়াবা ও ফেনসিডিল সেবন করতেন বলেও জানা যায়।

নিহত হাফসার মা বলেন, ‘১৫ বছর আগে জিয়া জোরপূর্বক আমার মেয়েকে বিয়ে করে। তাদের হামিম (১৩) ও জ্যোতি (৪) নামে দুটি সন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকেই জিয়া টাকার জন্য আমার মেয়েকে চাপ দিতে থাকে। পরে আমরা ব্যবসা করার জন্য তাকে কিছু টাকা দেই। কিন্তু বখাটে জিয়া ব্যবসা না করে টাকাগুলো নষ্ট করে। কিছুদিন পরে আবার আমার মেয়েকে টাকার জন্য চাপ দিতে থাকে। মাঝেমধ্যেই মারধর করে বাড়িতে পাঠিয়ে দিত। মেয়ের সুখের কথা ভেবে মাঝেমধ্যেই টাকা-পয়সা দিতাম। একপর্যায়ে মোটরসাইকেল কিনে দিতেও বাধ্য হই। কিন্তু তবু্ও আমার মেয়ে মন পায়নি। জিয়ার বাবা-মাসহ পরিবারের সকলে মিলে আমার মেয়ের উপর নির্যাতন চালাতো। শুধু দুই শিশুসন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে সকল যন্ত্রণা সহ্য করেও সে সংসার করতে চেয়েছে। কিন্তু ওরা আমার মেয়েকে বাঁচতে দিল না।

হাফসার বাবা বলেন, আমি আমার মেয়ের হত্যাকারী জিয়ার ফাঁসী চাই। সেই সাথে জিয়ার বোনের জামাই মেহেদীসহ পরিবারের ইন্ধনদাতা সকলের বিচার চাই।

স্থানীয়রা জানান, ঘটনার দিন সকাল থেকেই জিয়া হাফসাকে মারধর করতে থাকে। এক পর্যায়ে প্রতিবেশি এক মহিলা হাফসার শিশুকন্যা জ্যোতিকে নিজের কাছে নিয়ে রাখেন। বিকেলের দিকে বাসায় ভাংচুর ও উচ্চস্বরে চেচামেচি ও কান্নাকাটির শব্দ হলে পার্শ্ববর্তী নবীর সরদারসহ কয়েকজন বাসায় যেতে নিলে বিল্ডিং মালিক তাদের বাঁধা দিয়ে জানায়, এটা ওদের পারিবারিক বিষয়। মাঝেমধ্যেই ওদের মধ্যে ঝামেলা হয়। আমাদের বহিরাগতদের নাক গলাতে যাওয়া উচিত হবে না।

প্রতিবেশীরা জানায়, ‘সন্ধ্যার পরে জিয়া স্থানীয় দুইএকজনকে ফোন করে তার স্ত্রীর মৃত্যুর বিষয়টি জানালে স্থানীয়রা এসে টয়লেটের মধ্যে হাফসার গলায় ওড়না পেচানো লাশ পায়। পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে জিয়াকে আটক করে।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হাফসার ছেলে হামিম ঘটনার সময় অজ্ঞান হয়ে যায় এবং তাকে মা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রাতে সাংবাদিকদের কাছে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে হামিম জানায়, তার ফুপা মেহেদী হত্যার কাজে তার বাবার একমাত্র ইন্ধনদাতা। হাফসার ৪ বছরের শিশুকন্যাও রাতে ওর বাবা কর্তৃক মাকে অত্যাচারের বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে বলছিল, ‘আমি বাবাকে অনেক নিষেধ করেছি। মাকে মারতে নিষেধ করেছি। তাও বাবা কথা শোনেনি। ‘

হাফসার মামা কিরণ জানান, “আমার ভাগ্নির সাথে প্রতিনিয়ত ঘটে যাওয়া ঘটনা স্পষ্ট প্রমাণ করে জিয়া অসহনীয় অত্যাচার করে ওকে মেরে ফেলেছে। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ায় খুনী জিয়া গলায় ওড়না পেঁচিয়ে বাতরুমে ফেলে রাখে।”

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রতিবেশী এক মহিলা বলেন, ‘এর আগেও প্রায় দিনই মারপিট করত জিয়া। দুই সন্তানের মায়ায় শত গঞ্জনা সহ্য করে যাচ্ছিলেন হাফসা। তবু শেষ রক্ষা হলো না। প্রতিবেশী কেউ এগিয়ে গেলে তাকে গালিগালাজ করতো জিয়া।’

এ ঘটনায় সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন জানান, খবর পাওয়া মাত্র পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েছিল। কিন্তু তার আগেই গৃহবধূ হাফসার মৃত্যু হয়। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের বাবা নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ইতিমধ্যে জিয়াকে আটক করা হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০  
© www.crimenews.online
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট